বন্ধুতা

 

আসলে ঠিক যা যা ভাবা যায় তা হয় না...

 

যেমন শরৎ পেরোলে হেমন্ত আর হেমন্তের সবুজ প্রান্তরে গোল্লাছুট হলুদ রঙের পায়ে পায়ে জড়িয়ে থাকা চিঠি উদাশী হাওয়ার মতো সুখ গায়ে মেখে নৌকোযাপন আর কখন শীত আসবে তার জন্য হাপিত্যেস বসে থাকতে থাকতে বাজপড়া মানুষটির কানে কানে বিশল্যকরণী মন্ত্র উচ্চারন  ...

 

সেসময় পোড়া গাছটার তলায় জমে উঠেছে উৎসবের মেজাজ ছলকে পড়ছে তরল স্বপ্নের ছবি বেসূরো বেজে উঠেছে তানপূরা অথবা পিয়ানো হাস্নুহানার কটু গন্ধ আর আঁটোসাঁটো হাসিতে আমাদের বত্রিশপাটি বেলেল্লাপনা বিকশিত হচ্ছে  

আর তখন হঠাৎই

হেমন্ত না এসে গ্রীষ্ম এসে পড়ে  আর আমাদের দুপাশের চেনা এবং অচেনা বিশ্বাসগুলি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়ে চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দেয় তুমি তো সেই বন্ধু না

 

তুমি তো সেই বন্ধু না যার জন্য অপেক্ষায় থাকা যায় সমস্ত রাত্রি বিশ্বাস করে দেওয়া যায় সোনার কাঠি আর এক নিঃশ্বাসে বলে দেওয়া যায় হাস্যকর ব্যাঙ্গমা ব্যাঙ্গমীর গল্প 

তুমি তো সেই বন্ধু না যার জন্য প্রান্তিক স্টেশনে ফিনিক্স পাখীর মতো অপেক্ষায় আছি ...

 

আসলে ঠিক যা যা ভাবা যায় তা হয় না...

এখন শরৎ পেরোলে হেমন্ত আর হেমন্তের সবুজ প্রান্তরে রক্তের ফোঁটা ফোঁটা দাগ দেখে ভয় করে পায়ের তলায় বেঁধে নিই সর্ষের বীজ

 

আর সেই রক্তের দাগে তর্পন করি ফেলে আসা সাবধানী বন্ধুতাবোধের

 

রাহুল গুহ

৯ই জুলাই, ২০০৬