সুতানুটি

 

নাম রেখেছি সুতানুটি চুপি চুপি

 

এখন পা বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে সময় চোখে কড়কড় করছে ধুলো দুপুরে ডেকার্স লেনে জমে উঠেছে মধ্যবিত্ত চাউমিনের আড্ডা রোদ ছিঁড়ে নিচ্ছে মাথা আর একটু পরেই মেট্রো ধরবার তাড়াহুড়োয় হারিয়ে যাবে পুরোন বান্ধবীর ঠিকানা লেখা ডায়েরী।

 

আর মাত্র পনের মিনিট বাদে বাঁশিতে ফুসফুস উপুড় করে চিৎকার করে উঠবে একলক্ষ রাতজাগা চোখ গোল ...

 

আর তার ঠিক পনের মিনিট বাদে

          ফুটপাথ আলো করে ঘুমিয়ে পড়বে ভিখিরি ছেলেটা

জ্যোৎস্নার উষ্ণতা জড়িয়ে দিয়ে তার নাম রেখেছি

... সুতানুটি চুপি চুপি

 

নাম রেখেছি সুতানুটি চুপি চুপি

 

অন্ধকার রাস্তায় হঠাৎই ভুল করে হাত ধরেছিল জুঁইফুলের এক কিশোরী -

সে হাতে আমি উড়িয়েছি একাশিটি সাদা পায়রা,

হাত বুলিয়েছি শিশুটির গায়ে,

মুঠো করে ছুঁড়ে দিয়েছি কমলারঙের সূর্যের দিকে

ব্যাস্ত চুল ঝাঁকিয়ে চলে যেতে যেতে লাল রুমাল উড়িয়ে হেসেছিল এক অস্টাদশী

আমার চোখ তারপর থেকে অন্য কোনও রং দেখতে শেখে নি।

 

তারপর প্রজাপতি পাখী হয়ে উড়ে গেলে সমস্ত পাড়া অট্টহাস্যে ফেটে পড়ে

 

আর ডানা ভাঙা নীলকন্ঠ পাখীটির চোখ থেকে

হতভাগ্য জল মুছে নিয়ে নাম রেখেছি

                                      ... সুতানুটি চুপি চুপি

 

নাম রেখেছি সুতানুটি চুপি চুপি

 

এখন ব্যাস্ত হাডসন স্ট্রিটে রাস্তা পেরোতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে তোমার কথা মনে পড়ে। নীল কুয়াশায় মোড়া সন্ধ্যেবেলা এইটবি বাস স্ট্যান্ডের সামনের ভিড় রাস্তাটা পেরোবার সময় ঠিক এভাবেই জুবুথুবু হোঁচট ঠোঁটে চারমিনার কাঁধে যৌবন জমিয়ে রাখা শান্তিনিকেতনী ব্যাগ অগোছাল চুল আবছা চশমা বেসুরো গুন গুন সূর্য মুখী মানুষের ... সূর্য সন্ধানে ...

ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়েছিলো মাঝবয়েসী বিহারী ফুচকাওলা

৪৫ নম্বর বাসের কন্ডাক্টরের অশ্রাব্য গালিগালাজ শুনতে শুনতে

মাথার মধ্যে চুর চুর হয়ে ভেঙে পড়া লাইনগুলোকে সাজাতে সাজাতে

অচেনা লোকটির নাম রেখেছি

                             ... সুতানুটি চুপি চুপি

 

এখন তোমার ছবি আমার বিছানায় গড়াগড়ি খায়

ফুটপাথে আলো জ্বলে - নিভে যায় যাযাবর সুখ

দেহাতী কর্তব্যবোধ হাডসনে লুকোচুরি খেলে

ছকু খানসামা লেনে বৃদ্ধ বটের গায়ে নিষ্ঠুর বাজ

 

চোখ ভিজে যায় বলে বুঝি বেঁচে আছি

ঈশ্বরের বাগানে আজ ধুলোমাটি খেলা

এইসব কান্নাদের কোল পেতে রাখি

কানে কানে নাম দিই সুতানুটি চুপি চুপি

 

রাহুল গুহ

৯ই জুন, ২০০৬